চট্টগ্রাম, নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালী থানা পুলিশের নেতৃত্বে র্যাবের যৌথ অভিযানে আলোচিত হাতের কব্জি বিচ্ছিন্নের ঘটনায় এজাহারনামীয় প্রধান আসামী মোঃ সবুজ (২৫) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় ব্যবহৃত রক্তমাখা ধারালো অস্ত্র (ধামা/দা) উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখ বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে ভিকটিম মোঃ মিনহাজ (২৩) রিকশাযোগে তার কর্মস্থল কোতোয়ালী থানাধীন কোর্টহিল এলাকার জহুর হকার্স মার্কেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। পথে কোরবানীগঞ্জ বলুয়াদিঘীর পশ্চিমপাড়ে মেসার্স মাষ্টার এন্টারপ্রাইজের সামনে পৌঁছালে পূর্ব শত্রুতার জেরে এজাহারভুক্ত আসামীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার রিকশার গতিরোধ করে।
এসময় আসামী আবদুল আউয়াল অপু (৩৬), মোঃ সবুজ (২৫), তুহিন (২৭)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জন দেশীয় অস্ত্র যেমন ধামা, কিরিচ ও ছোরা নিয়ে ভিকটিমের ওপর হামলা চালায়। তারা মিনহাজকে রিকশা থেকে নামিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এতে তার দুই হাত, দুই পা, মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত লাগে।
একপর্যায়ে আসামী সবুজ মাথায় আঘাত করার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দিলে ভিকটিম আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। এতে তার ডান হাতের কব্জির নিচ থেকে হাতের পাতা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় ভিকটিম নিজেই আসামীদের পরিচয় প্রকাশ করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভিকটিমের বোন তানজিনা আক্তার (২৬) বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-১৯, তারিখ ০৬/০৪/২০২৬ ইং; ধারা ১৪৩/৩৪১/৩২৬/৩০৭/৫০৬(২)/৩৪ পেনাল কোডে রুজু করা হয়।
সিএমপি’র দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) জনাব হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া-এর সার্বিক দিক-নির্দেশনায় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) ও সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালী জোন)-এর তত্ত্বাবধানে কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আফতাব উদ্দিন এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে ১০ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ভোর আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানাধীন ইমামপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামী সবুজকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী চট্টগ্রাম নগরীর বক্সিরহাট এলাকার একটি দোকানের সামনে চৌকির নিচ থেকে রক্তমাখা ধামা উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে একই মামলার আরেক এজাহারনামীয় আসামী তুহিন, যিনি একাধিক মামলার আসামী, তাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামী সবুজের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।