রংপুর, নিজস্ব প্রতিবেদক:
অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান, সাম্প্রতিক গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন এবং চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনের দাবিতে রংপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে নগরীর টাউন হল চত্বরে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। মিছিলটি টাউন হল থেকে শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে পুনরায় টাউন হল চত্বরে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগানে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংবিধান সংস্কার একটি জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা ও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী একটি আধুনিক, গণমুখী ও কার্যকর সংবিধান প্রণয়নের জন্য দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা প্রয়োজন। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, সাম্প্রতিক গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের মতামতই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে সেই রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়ায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলে তারা উল্লেখ করেন। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে।
এছাড়া, বক্তারা দেশের জ্বালানি সংকটের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে তুলে ধরেন। তারা বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং শিল্প-কারখানাগুলোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারী একাধিক নাগরিক বলেন, জ্বালানি সমস্যার কারণে ঘন ঘন লোডশেডিং এবং গ্যাস সংকটের ফলে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক।
বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত তাদের দাবি মেনে না নেওয়া হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরলেও প্রয়োজনে রাজপথে আরও বৃহৎ আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও জানান।
সমাবেশ শেষে একটি স্মারকলিপি প্রণয়নের ঘোষণা দেওয়া হয়, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে শিগগিরই প্রদান করা হবে বলে আয়োজকরা জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, জনগণের স্বার্থে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দেশের বর্তমান সংকটগুলো সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একই দাবিতে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে, যা জনমতের প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।